Friday, May 24, 2024 | 1445 ذو القعدة 16
Islam

তাঁর সময়ের একমাত্র পরাশক্তি হযরত ওমর আদালতে কেঁদেন আর অপরাধ স্বীকার করেন

তাঁর সময়ের একমাত্র পরাশক্তি হযরত ওমর আদালতে কেঁদেন আর অপরাধ স্বীকার করেন

 

(আহাদিস থেকে সংগ্রহ)

ঘটনাটি এই যে, হযরত আব্বাস (রাঃ) এর ঘরটি ছিল মসজিদে নবয়ীর একদম পাশে এবং এই ঘরের ড্রেনটি ছিল মসজিদে নবয়ীর দিকে। বৃষ্টি হলে ড্রেন থেকে জল পড়ত, যার ছিটা পড়ত মুসল্লী দের গায়ে। আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ফারুক (রাদিআল্লাহু আনহু) মুসল্লিদের উপর ছিটে পড়তে দেখেন, তাই তিনি ড্রেনটি কে ভেঙ্গে ফেলেন।

হজরত আব্বাস (রা.) এসে দেখলেন, তাঁর ঘরের ড্রেনটি  ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। জিজ্ঞেস করলেন কে ভেঙ্গেছে? উত্তর পেলেন যে,আমীরুল মুমিনীন মুসল্লিদের ওপর ছিটা পড়তে দেখে এটা খুলে ফেলেছেন।

হজরত আব্বাস (রা.) কাজীর কাছে মামলা করেন। আমীরুল মুমিনীন, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তখনকার বিচারক হযরত উবাই বিন কাব (রা.) এর আদালতে হাজির হন। বিচারক তখন অন্য জনগণের মামলা শুনতে ব্যস্ত ছিলেন

আর আদালতের বাইরে অপেক্ষা করছেন হজরত উমর ফারুক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন হজরত উমর (রা.) আদালতের সামনে হাজির হলেন, তিনি কথা বলতে শুরু করলেন, কিন্তু উবাই বিন কাব (রা.) তাকে এই বলে থামিয়ে দিলেন যে বাদীর অধিকার রয়েছে তার দাবি আগে উপস্থাপন করার। এমনিতেই হযরত ওমর (রা.) এর যুগের প্রধান বিচারপতি তাঁর বাদশাহ, সকল মুসলমানদের আমির এবং বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শাসককে সম্বোধন করতে ছিলেন।

হজরত আব্বাস (রা.) দাবি করেন, আমার বাড়ির ড্রেনটি শুরু থেকেই মসজিদে নবয়ীর দিকে ছিল। মোহানবী (সাঃ) এর যুগের পর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর সময়েও এমনটি হয়েছিল। কিন্তু উমর (রাঃ) আমার অনুপস্থিতিতে আমার অনুমতি ছাড়াই আমার ড্রেনটি ভেঙ্গে দিলেন। তাই আমি বিচার চাই। প্রধান বিচারপতি হজরত উবাই বিন কাব (রা.) হজরত আব্বাস (রা.) কে বলেন, আপনি চিন্তা করবেন না, আপনি ন্যায়বিচার পাবেন।

কাজী সাহেব, মহাশাসহক হযরত ওমর ফারুক (রা.) কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আব্বাস (রাঃ) এর বাড়ির ড্রেন কেন সরিয়ে দিলেন?

বিশ লক্ষ বর্গমাইলের বাদশাহ আদালতে দাঁড়িয়ে বলতেছেন যে  আব্বাসের (রা) ঘরের ড্রেন টি মসজিদে নববীর দিকে মুখ করে ছিল। যখন বৃষ্টি হয়, তকন উনার ড্রেন থেকে জল প্রবাহিত হয় এবং মুসল্লিদের  উপর ছিটকে পড়ে, যা মুসল্লিদের অসুবিধা এবং অস্বস্তির কারণ হয়, তাই আমি তা সরিয়ে দিয়েছি।

উবাই ইবনে কাব (রাঃ) দেখলেন যে, আব্বাস (রাঃ) কিছু বলতে চান, তাই জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কি বলতে চান? তখন হযরত আব্বাস (রাঃ) বলেন, যে স্থানটিতে আমার ঘর এখানে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর লাঠি দিয়ে আমাকে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন আর আমি সেই স্থানেই ঘর নির্মাণ করেছি। তারপর যখন স্পাউট লাগানোর সময় এল আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, চাচা জান, আমার কাঁধের উপর দাঁড়ান এবং এই জায়গায় একটি ড্রেন বসান। আমি মহানবী (সা.) এর কাঁধে ভর দিয়ে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানালাম, কিন্তু আমার ভাতিজার জেদের কারণে আমি তাঁর কাঁধে দাঁড়িয়ে এখানে ড্রেনটি স্থাপন করলাম। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে এখানেই ড্রেন স্থাপন করেছিলেন।

কাজী সাহেব - হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যাপারে আপনার কোনো সাক্ষী আছেন কি? হযরত আব্বাস (রাঃ) দ্রুত বের হয়ে কয়েকজন আনসার সাহাবীকে নিয়ে এলেন। উনারা সবাই সাক্ষ্য দিলেন যে, আব্বাস (রাঃ) সত্য বলতেছেন। এমন শুনে আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর (রা.) দুঃখিত হয়ে পড়েন এবং কাঁদতে লাগেন। চক্ষু থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল, তাঁর প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কথা মনে পড়েগেলো আর নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সময়কার দৃশ্য তাঁর মনে ঘুরপাক খেতে লাগল। দরবারে সবার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন দুই লক্ষ বর্গমাইলের এই মহান শাসক জার নাম শুনলেই কেপে উটতো কয়সর ও কিসরার মসনদ। বাদশাহ ওমর (রাঃ) হযরত আব্বাস (রাঃ) কে বলেন আমি জানতাম না যে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে ওই জায়গায় ড্রেইন স্থাপন করেছেন। আমি ভুল করেছি। আপনি আমার সাথে চলোন, ঠিক যেভাবে মহানবী (সা.) এই ড্রেনটি স্থাপন করেছিলেন সেইভাবে আপনি আবার স্থাপন করেনিন। তখন সমস্ত জনতা সাক্ষ্য ছিলেন যে, সময়ের মহাশক্তি শাসক, ঘরের দেয়ালে দুই হাত রেখে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক যেভাবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়েছিলেন আর হজরত আব্বাস (রা.) আমীরুল মুমিনীন এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাদশাহ হযরত ওমর ফারুক (রা.) এর কাঁধে পা দিয়ে আবার ওই জায়গাটিতে ড্রেইন উপস্থাপন করলেন। তৎকালীন শাসকের এই আচরণ দেখে হজরত আব্বাস (রা.) তাঁর ঘর তখনই মসজিদে নববীর জন্য ওক্বফ করেদিলেন। মসজিদে নববীর 'বাব আল-সালাম' থেকে প্রবেশ করলে দেয়ালের ডানদিকে চৌদ্দশত বছর অতিবাহিত হলেও এই ড্রেনের অবস্থানের নিদর্শন এখনও দেখা যায়।

 

Note: